দীঘিনালায় কমিউনিটি লানিং সেন্টার স্থাপন বিষয়ক কর্মশালা
খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় স্থানীয় এনজিও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা লিড এনজিও হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন, বাংলাদেশ -এর কারিগরী সহযোগিতায় এবং ICIMOD-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত “Promoting GESI Responsive Nature-based Solutions for enabling Resilience in Chattogram Hill Tracts (CHT) of Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অংশীদারদের সহযোগিতায় কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারে জন্য পরীক্ষামূলক এলাকা সনাক্তকরণ কেন্দ্র স্থাপন ও নিবার্চন বিষয়ক কর্মশালা করা হয়েছে।
২৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ধনেশ্বর দেওয়ান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সফিকুল আলম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ওস্কার বিশ্বাস; বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবদুল আল মালেখ, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি; এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন, বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি মি. দীপ্তিময় চাকমা।
কর্মশালায় প্রকল্পের পক্ষ থেকে সুকিরণ চাকমা কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারগুলোর উদ্দেশ্য, ধারণা এবং সম্ভাব্য কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সেন্টারগুলো ভবিষ্যতে "জীবন্ত শিক্ষণ পরীক্ষাগার (Living Laboratory)" হিসেবে কাজ করবে। এখানে স্থানীয় জনগণ, কৃষক, যুবসমাজ, নারী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতি শেখার সুযোগ পাবেন।
প্রকল্পের আওতায় বড়াদম পাড়া, কবাখালী, বাচামেরুং, সাদকছড়া এবং বটতলি পাড়া—এই পাঁচটি এলাকাকে প্রাথমিকভাবে কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার স্থাপনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই লার্নিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, নারী ও যুবদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব চর্চার প্রসার ঘটানো হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প এলাকার সম্ভাব্য স্থানগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে বড়াদম পাড়াকে প্রধান পরীক্ষামূলক এলাকা হিসেবে মনোনীত করেন। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মাটি ও পানি সংরক্ষণ, জৈব সার ও জৈব কীটনাশক উৎপাদন এবং জলবায়ু সহনশীল ফসল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পাবেন।
কর্মশালায় উপজেলার প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রথাগত নেতা, নারী প্রতিনিধি, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রকল্প এলাকার সুফলভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের জীবিকা নির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের "কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার" একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। এটি কেবল প্রশিক্ষণ বা জ্ঞান বিনিময়ের জায়গা নয়, বরং স্থানীয় জনগণের জন্য উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময়, নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বাস্তবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মি. ধনেশ্বর দেওয়ান সকল অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বলেন যে, অংশীদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত পরীক্ষামূলক এলাকাগুলোতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে। কর্মশালাটি ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয়।