পিআরএলসি প্রকল্পের জেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভা

পিআরএলসি প্রকল্পের জেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভা

পার্বত্য চট্টগ্রামের দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য হ্রাস ও সহনশীল জীবিকায়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জেলা পরিষদ, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে “অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সহনশীল জীবিকার জন্য সহায়তা (পিআরএলসি) প্রকল্প”-এর জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি খাগড়াছড়ির মিলনপুরস্থ গাইরিং হোটেলের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা ও আলো’র বাস্তবায়নে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি ও গুইমারা উপজেলায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আলো’র নির্বাহী পরিচালক জনাব অরুন কান্তি চাকমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব শেফালিকা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য জনাব রক্তোৎপল ত্রিপুরা এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা। সভায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক জনাব স্যুইচিং অং মারমা। পিআরএলসি প্রকল্পের পরিচিতি উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক জনাব নিখিল চাকমা এবং চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়ক জনাব আনজুম বহ্নি চাকমা। সঞ্চালনায় ছিলেন আলো’র প্রকল্প সমন্বয়ক জনাব মিক্সন চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব শেফালিকা ত্রিপুরা প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামের দরিদ্র জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।” তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাশরুম উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

সভাপতির বক্তব্যে আলো’র নির্বাহী পরিচালক জনাব অরুন কান্তি চাকমা বলেন, “আলো ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় পিআরএলসি প্রকল্পটি দুইটি উপজেলায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।” তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে চলমান পিআরএলসি প্রকল্পটি দুইটি উপজেলার ১৫৬টি পাড়ার মোট ৪,৬১৮ পরিবারের জীবিকায়ন, পুষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কাজ করছে।